জাতীয়

নতুন পে স্কেল ঘোষণা ; শীঘ্রই বাস্তবায়ন

সকল যল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ ১১ বছর পর অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো।অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় রেখে আলাদাভাবে এই পে-স্কেল মাঠপর্যায়ে তিন ধাপে বাস্তবায়নের একটি নীতিগত পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
১৯ ই মে ২০২৬

 অর্থ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উচ্চপর্যায়ের সূত্র মতে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ জুলাই থেকে এই নতুন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে বলে একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এই পে-স্কেল প্রণয়ন, কাটছাঁট এবং সম্ভাব্য বাস্তবায়নের পেছনের নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে।

২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণার পর থেকে বিগত এক দশকে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে কয়েক গুণ। দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও বিদ্যুৎ খরচ বৃদ্ধির ফলে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীরা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকেই এখন সংসার চালাতে ব্যাংক ঋণ ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ কর্মচারীরা সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক ব্যতিক্রমধর্মী মৌন মিছিল ও প্রতিনিধি সমাবেশ করে তাদের দাবি তুলে ধরেন। সংগঠনটির দাবি, বাজেট প্রণয়নের আগেই সচিব পর্যায়ের সুপারিশ কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে নতুন অর্থবছরে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা সহজ হবে, অন্যথায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে চাকরিজীবীদের মনোবল আরও ভেঙে পড়তে পারে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২১ সদস্যের বেতন কমিশনের প্রস্তাবিত মূল কাঠামোটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ,৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে একসঙ্গে এত বড় অঙ্কের জোগান দেওয়া সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক বৈঠকে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়নের একটি কৌশলগত খসড়া তৈরি করা হয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সবকিছু চূড়ান্ত হলে প্রথম ধাপে নতুন বেসিকের ৫০ শতাংশ কার্যকর হতে পারে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে বাকি ৫০ শতাংশ বেসিক এবং তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

মতামত দিন